
অর্ধশত বিচারকের ‘দুর্নীতি’র তদন্ত চেয়ে রিট খারিজ


সারা দেশের অধস্তন আদালতের প্রায় অর্ধশত বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অবিশ্বাস্য সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী অ্যাডভোকেট আমিমুল এহসান জোবায়ের। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ।
এসময় আদালত বলেছেন, দুদকের যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পত্রিকায় বিচারকদের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষ খোঁজ নিয়ে এ ধরনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের অস্তিত্ব পায়নি। শতভাগ নিশ্চিত হওয়া ছাড়া বিচারকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের রিট কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরে আদালত রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর সারাদেশের অধস্তন আদালতের প্রায় অর্ধশত বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অবিশ্বাস্য সম্পদ ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমিমুল এহসান জোবায়ের জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে আইন মন্ত্রণালয় সচিব, দুদকের চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেলসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘অবিশ্বাস্য সম্পদ অর্ধশত বিচারক-কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে শতকোটি টাকা অনেকের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিটটি দায়ের করা হয়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তার অবিশ্বাস্য সম্পদের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের অনেকেই অবৈধ উপায়ে শতশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কেউ কেউ আবার হাজার কোটি টাকার মালিক। অনেকের আলিশান ফ্ল্যাট রয়েছে দেশে ও বিদেশে। কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ি কিনেছেন বেশ কয়েকজন। শত শত বিঘা জামির মালিকানা অর্জন করেছেন কয়েকজন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা শাখার গোপন অনুসন্ধানে বিচার বিভাগের ৫১ জনের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের নামে-বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্যও রয়েছে দুদকের কাছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে দৈনিকটি। খবরে দুদক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শিগগির তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু হবে। অনুসন্ধানে ওইসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে আরও সম্পদ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর পর তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুদকের অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর আনিসুল হক আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে ধীরে ধীরে কলুষিত হতে থাকে বিচার বিভাগ। ওইসব কর্মকর্তা মন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ায় তারা ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ